সড়কপথে চলুন ভুটানে

দক্ষিণ এশিয়া ও সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম হলো আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভূটান। সুবিশাল হিমালয়ের কল্যাণে উঁচু পর্বতমালা,ঘন বনজঙ্গল,সবুজ ভ্যালি ভূটানের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম। প্রকৃতির অকৃত্রিম মমতায় সবুজে ছাওয়া বিস্তৃত এই অঞ্চল পর্যটকদের বেশ আকর্ষণীয়। সনাতন সংস্কৃতিই হলো ভূটানের ঐতিহ্য। ভূটানই পৃথিবীর একমাত্র রাষ্ট্র যেখানে সকল আইনকেই ঈশ্বরের আইন বলে ধরে নেওয়া হয়।ভূটানের মোহময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ট্যুরিষ্ট অ্যাট্রাকশন যারা ভ্রমণ ভালোবাসেন-তারা কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারেন না। সব মিলিয়ে সার্কভূক্ত ক্ষুদ্র এই রাষ্ট্র ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য বয়ে আনতে পারে সুখকর এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। মনোরম পাহাড়ের পরিপাটি এই শহর দেখে আপনার মন ভরে যেতে পারে। তাই কোনো এক ঝলমলে রোদেলা দিনে আপনি সড়কপথে বেরিয়ে পড়তে পারেন ভুটানের উদ্দেশে।

কীভাবে যাবেন
ভুটান ভ্রমণের জন্য প্রথমেই আপনার প্রয়োজন হবে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার, যা বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাস এবং ভিসা সেন্টারগুলো থেকে নিতে পারেন । আপনাকে অবশ্য ঢাকা-শিলিগুড়ি অথবা ঢাকা বুড়িমারী রুটের টিকেট আগেই করে রাখতে হবে (বাসের টিকেট ট্রানজিট ভিসার কাগজপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে)। ঢাকার আরামবাগ থেকে বাস ছাড়ে রাত ৮টায় এবং কল্যাণপুর থেকে ৯টায়।

বাস বুড়িমারী সীমান্তে পৌঁছাতে সময় নেবে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা। তার মানে পরদিন সকাল ৭-৮টা। বুড়িমারী ইমিগেশন অফিস খোলে সকাল ৯টায়। বাস আগে পৌঁছলে আশেপাশের আবাসিক হোটেলে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিতে পারেন। বুড়িমারী ইমিগ্রেশন অফিসে কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় লাগে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ইমিগ্রেশন অফিসের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে পায়ে হেঁটে প্রবেশ করুন ভারতে। চ্যাংড়াবান্ধা (ভারত) ইমিগ্রেশন অফিসে কাজ শেষ হতে তেমন সময় লাগে না, তারা দ্রুত কাজ করেন। ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে ডলার বা টাকা রুপিতে এক্সচেঞ্জ করে নিন। ডলার এক্সচেঞ্জের রসিদ নিয়ে নেবেন, পরে দরকার পড়তে পারে আপনার। টিকেট যদি শিলিগুঁড়ি পর্যন্ত করা থাকে তাহলে ইমিগ্রেশন আর ডলার এক্সচেঞ্জের কাজ শেষ করে উঠে পড়ুন আপনার জন্য অপেক্ষারত চ্যাংড়াবান্ধা ইমিগ্রেশন অফিসের পাশের বাসটিতে। অথবা যারা শুধু বুড়িমারী পর্যন্ত টিকেট করবেন তারা ট্যাক্সিতে করে চ্যাংড়াবান্ধা টু জয়গাঁও ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসে (ভুটান সীমান্তের কাছে) চলে যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে ১০০০-১৫০০ রুপির মতো।

যারা শিলিগুড়ি পর্যন্ত টিকেট করবেন তারা শিলিগুড়ি না গিয়ে পথেই ময়নাগুড়ি নামক জায়গায় নেমে কোন একটা লোকাল বাসে উঠে সোজা হাসিমারা চলে যাবেন । এখানে ভাড়া জনপ্রতি ৫০ রুপি। সেখান থেকেই অটোতে জয়গাঁও ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিস (ভুটান সীমান্তের কাছে), ভাড়া জনপ্রতি সাত রুপি। ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিস থেকে ডিপার্চার/এক্সিট (সব ঠিক থাকলে সময় তেমন লাগে না) সিল লাগিয়ে সোজা ভুটান। ভুটান ইমিগ্রেশন অফিস ফুন্টশোলিংয়ে অবস্থিত ভুটান গেটের পাশেই। এখান থেকে অন-আরাইভাল ভিসা নিতে হবে, অবশ্য এখান থেকে শুধু থিম্পু আর পারো ভ্রমণের অনুমতি পাওয়া যাবে। পুনাখা, হা ভ্যালী, বুমথাং ও অন্যান্য জায়গার অনুমতি পরে থিম্পু থেকে নিতে হবে আপনাকে।

মনে রাখবেন, ফুন্টশোলিং ইমিগ্রেশন অফিস শুধু বাংলাদেশি আর বিদেশিদের জন্য সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। কোনো সরকারি বন্ধ নেই। বাংলাদেশিদের ভুটানিরা খুব সম্মান করেন।

ফুন্টশোলিং ভুটান ইমিগ্রেশন অফিস থেকে অন-আরাইভাল ভিসা নিয়ে আপনি ৪ সিটের একটি ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন ১,৮০০ রুপি দিয়ে। যা সোজা চলে যায় থিম্পু। দরদাম করে গাড়ি ভাড়া করতে হবে আপনাকে। আপনি ড্রাইভার নিতে পারেন নেপালি, ভুটানি। তারা খুব ভালো, পরবর্তীকালে আপনি যে কদিন ভুটানে থাকবেন এদের ট্যাক্সিতে করে আপনি ঘুরতে পারেন। যে কদিন আপনি থাকবেন সারাদিনের জন্য ওদের গাড়িটি আপনি নিতে পারেন। যার মূল্য পড়তে পারে আনুমানিক ১১ হাজার রুপি। এরা খুব ভালো ইংরেজি আর হিন্দি জানে। তাছাড়া তারা ড্রাইভার ও গাইড হিসেবে খুবই মিশুক ও বন্ধুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবেন, ফুন্টশোলিং থেকে থিম্পু বাসেও যেতে পারবেন। শেষ বাসের সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট, ভাড়া ২৪০ রুপি, সময় লাগবে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা। ও ভালো কথা, আপনি আগেথেকেই একটা হোটেলে রুম বুক করে রাখতে পারেন। মনে রাখা ভালো, ভুটানে সব দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট সবকিছুই রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। তাই হোটেল ঠিক আর ডিনার না করে নিলে বিপদে পড়তে পারেন ।

ভুটানে থাকবেন কোথায়
ভুটানে দামি, কমদামি সব ধরনেরই হোটেল আছে। কিন্তু হোটেলে অবশ্যই দামাদামি করে উঠবেন। যেমন- ৭০০-৮০০ রুপি থেকে ১৫ হাজার রুপি পর্যন্ত। আপনি সর্বনিম্ন ৮০০ রুপি আর সর্বোচ্চ ১,৫৪০ রুপি দামের হোটেলে থাকতে পারেন। সবগুলো হোটেলই নিশ্চিন্ত নিরাপদ।

প্রথমদিন হোটেলে উঠেই রাতে খেয়ে দেয়ে একটা ঘুম দিন । আহ! দারুন একটা ঘুম দিলেন তো? ২৪ ঘন্টা দৌড়ের ওপর থাকার পর এমন একটা ঘুম দরকার ছিল বৈকি।

যাইহোক, দ্বিতীয়দিন সকাল সাড়ে ৬ টায় ঘুম থেকে উঠতে হবে । বের হতে হবে ৭ টায় । কারণ এক দিনেই থিম্ফুর যা দর্শনীয় জায়গা সব দেখতে হবে । এবং এর অর্ধেক দেখতে হবে হেঁটে হেঁটে । নো ট্যাক্সি । আপনি একা ঘুরতে এসেছেন । সারাদিনের জন্য ট্যাক্সি নিলে মানিব্যাগের তলা থাকবে না । তবে ঘাবড়ানোর কারণ নেই । থিম্ফুর ট্যুরিস্ট স্পটগুলো সব হাঁটা দূরত্বেই । শুধু দুয়েকটা স্পট ট্যাক্সির পথ । আর দলবেঁধে গেলে তো ঝামেলাই নেই । সারাদিনের ট্যাক্সি তখন মামুলি । ভালো কথা, আগের রাতেই হোটেল রিসিপশনে বলে রাখুন আপনি সকাল ৭ টায় বের হবেন । নইলে খানিক দেরি হবে বের হতে । এরা ঘুম কাতুরে জাতি । ৮টা ৯টার আগে ওঠে না । অথচ ঘুমায় ১০ টার ভেতর । এবার আসি থিম্ফুতে কী কী জায়গা ঘুরবেন ।

প্রথমে পায়ে হাঁটা জায়গার লিস্ট দিই:
১। Memorial Chorten ২। Royal Textile Academy ৩। Folk Heritage Museum ৪। National Library and Archives ৫। Clock Tower ৬। Archery Ground ৭। Stadium ৮। Tashichhodzong ৯। Thimphu Chu বা থিম্ফু নদী
এই স্পটগুলো পায়ে হেঁটে দেখতে পারবেন । সকাল ৭ টায় বের হলে সহজেই ১২ টার ভেতর দেখা শেষ হয়ে যাবে । দেশে থাকাকালীন সময়ে এই জায়গাগুলোর ম্যাপ মোবাইলে স্ক্রিন শট (screen shot) হিসেবে নিয়ে যান । তাতে অনেক সুবিধে হবে ।
কোনটা কী এবং দেখতে কেমন তা জানার জন্য google মামা আছে । উনাকে খোঁচা মারুন !

এবার আসি ট্যাক্সি করে কোথায় যাবেন:
১। বুদ্ধা পয়েন্ট বা Buddha Dordenma ২। Takin Preserve Zoo ৩। Choki Traditional Art School
ব্যস, এই তিনটেই ট্যাক্সি করে যাবার প্লেস । আরো দুই তিনটা জায়গা আছে । কিন্তু সেগুলো দ্রষ্টব্য না । দুপুর ১২ টার মধ্যে পায়ে-হেঁটে-দেখা জায়গাগুলো শেষ করুন । যেখান থেকেই শুরু করেন না কেন শেষ করুন Tashichhodzong এ । এর পাশেই পুনাখার পারমিট করানোর জন্য ইমিগ্রেশান অফিস । এপ্লিকেশান করলে ৩০ মিনিট পর পারমিট পাবেন । এই সময়ের মধ্যে দুপুরের খাবারটা খেয়ে নিন ।

দুপুর ১টায় ট্যাক্সি নিয়ে বের হোন বুদ্ধা পয়েন্ট, zoo এবং আর্ট স্কুল দেখতে । চিড়িয়াখানা এবং আর্ট স্কুলটা বাদ দিতে পারলে বুদ্ধা পয়েন্টে হেঁটেই যেতে পারেন । মাত্র ৬ কিলো দূরত্ব মেইন শহর থেকে । নতুবা আধা বেলার জন্য আপনার পকেট থেকে ৫০০-৮০০ রুপি অনায়াসে বেরিয়ে যাবে ।

সারাদিনের সোয়া সতের কেজি তৃপ্তি আর কয়েক সের ক্লান্তি নিয়ে হোটেলে আসুন । যদি বাসে পুনাখা যেতে চান তবে হোটেলে আসার আগে থিম্ফু নদীর ওপারের বাসস্ট্যান্ডে যান । গিয়ে অগ্রিম টিকিট নিয়ে আসুন । নতুবা পরদিন সকালে টিকিট নাও পেতে পারেন । বাস সারাদিনে ২ টা । প্রথমটা সকাল সাড়ে ৮ এবং পরেরটা দুপুর ২ টায় । ভাড়া ৭০ রুপি । যেতে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘন্টা । আপনি চাইলে শেয়ারের ট্যাক্সিতেও যেতে পারেন পুনাখা । ৩০০ রুপি নেবে । সময় বাসের চেয়ে ১ ঘন্টা কম লাগবে । যদি শেয়ারের ট্যাক্সিতে পুনাখা যেতে চান তবে হোটেলে এসে কাউন্টারে বলে রাখুন আপনি আগামীকালও সকাল ৭ টায় বেরোবেন । কারণ সকাল সকাল না বেরোলে শেয়ারের ট্যাক্সি পাওয়া মুশকিল । ট্যাকে টাকা বেশি থাকলে ৩০০০ রুপিতে থিম্ফু টু পুনাখা টু থিম্ফু ট্যাক্সি একাই নিতে পারেন । ট্যাক্সি আপনাকে পুনাখার সব স্পট ঘুরিয়ে দেখাবে ।

তৃতীয় দিন সকালে থিম্ফু থেকে পুনাখা যাবেন । ব্যাক করবেন সন্ধ্যার খানিক আগে। এসেই পারো চলে যাবেন । সুতরাং সকালেই আপনার হোটেলে চেক আউট হয়ে যাচ্ছে । আগের রাতেই বলে রাখুন আপনি সকালে চেক আউট করবেন এবং আপনার একটা লাগেজ এখানে রেখে যাবেন (মাল-পত্তর এতদূর টেনে নিতে পারলে অন্য কথা) । বিকেলে পুনাখা থেকে ফিরে ব্যাগ সহ চলে যাবেন থিম্ফু বাসস্ট্যান্ড । সেখান থেকে ট্যাক্সিতে পারো ।

পুনাখায় যা দেখবেন
১। Punakha Dzong ২। Suspension Bridge ৩। Khamsum Namgyal Chorten ৪। Chimi L’hakhang Temple
দর্শনীয় জায়গা কম বলে হতাশ হবেন না । পুরো পুনাখাই আসলে একটা দেখার মত জায়গা । আর আসা যাওয়ার পথে গাড়ি থেকেই দোচুলা পাস দেখতে পারবেন । বাস বা শেয়ারড ট্যাক্সি হলে নামতে পারবেন না । জায়গাটা পুনাখা ও থিম্ফু, এই দুয়ের মাঝামাঝি । তাই একে দেখতে চাইলে খরচটা বেড়ে যায় ।
দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে পুনাখা থেকে থিম্ফুর বাস ছাড়ে । মিস করলে আবার ট্যাক্সি । বিকেলে চলে আসুন থিম্ফু বাসস্ট্যান্ড । শেয়ারড ট্যাক্সিতে পারো । সময় লাগবে দেড় ঘন্টার মত । ভাড়া পড়বে ২০০ রুপি । চাইলে সকালেও যেতে পারেন । সেক্ষেত্রে খানিকটা সময় লস হবে আপনার । সকাল সকাল পারো দেখা শুরু করতে পারবেন না । থিম্ফু থেকে দিনে দুইটা না যেন তিনটা বাস আছে । ভাড়া ৫৫ রুপি । সময় নেয় আড়াই ঘন্টা প্রায় । আমি ধরে নিচ্ছি বিকেলেই আপনি পারো যাচ্ছেন, ট্যাক্সিতে । সেই হিসেবে প্ল্যান । পারো পৌছুতে রাত হবে । হোটেলে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে রাত ৮ টা থেকে সাড়ে ৮ টার ভেতর খাবারের খোঁজে বের হোন । যে হোটেলে উঠেছেন সেখানেই যদি খান তবে রাত ৮ টার ভেতর অর্ডার করে আসুন এবং বলে আসুন আপনি কয়টায় খাবেন । কিছু হোটেলে রাত ১০ টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে ।

চতুর্থদিন পারো থেকে সোজা চলে যান জয়গাঁও । জয়গাঁও থেকে হাসিমারা হয়ে ময়নাগুরি থেকে চ্যাংড়াবান্ধা এবং তারপর বুড়িমারী। ঠিক যাওয়ার সময় বাংলাদেশ থেকে যেভাবে গিয়েছিলেন।

জয়গাঁও থাকে অটোতে করে আপনি চলে যান হাসিমারা রেলস্টেশনের উদ্দেশে। এরপর শিলিগুড়ি চলে যাবেন, তবে আপনি ইচ্ছে করলে বাসে যেতে পারেন। সেজন্য আপনাকে জয়গাঁও থেকে সরাসরি বাসে উঠতে হবে। তবে এখানে খরচ বেশি পড়বে। হাসিমারা থেকে ট্রেন ১০টা ২০ মিনিটে, ভাড়া জনপ্রতি ৬০ রুপি। টিকিটে কোনো বগি নির্দিষ্ট করা থাকে না। আপনি একটা স্লিপার বগিতে উঠে পড়তে পারেন। আপনি শিলিগুড়ি পৌঁছে যেতে পারেন ২টার দিকে। বিকেল ও সন্ধ্যায় কিছু শপিং করতে পারেন। ইচ্ছে করলে রাতে শিলিগুড়িতেই থেকে যেতে পারেন।

আপনি ভাগ্যক্রমে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসায় ভারতে অবস্থানকালে সময় বেশি পেলে এই সুযোগে দার্জিলিংও ঘুরে আসতে পারেন। শিলিগুড়িতেই ছোটখাটো শপিং করতে পারেন। শিলিগুড়ির মানুষ ভালো। বাংলাদেশ থেকে আপনি আসছেন শুনলে অনেকে গল্প করবে আপনার সঙ্গে। বাংলাদেশের প্রতি তাদের ভালোই টান আছে। শিলিগুড়ি মালদাগুড়ি (শ্যামলী বাস কাউন্টার) থেকে বাস আছে ১টা ৩০ মিনিটে (দিনের একমাত্র বাস তা আবার রোববার বন্ধ থাকে)। চ্যাংড়াবান্ধা ইমিগ্রেশনে আসতে আসতে ৪টা বাজতে পারে। তেমন কোনো ঝামেলা ছাড়াই চ্যাংড়াবান্ধা-বুড়িমারী সীমান্ত পার হতে পারেন। বাংলাদেশে বুড়িমারী ইমিগ্রেশন অফিসের পাশে শ্যামলীর এসি বাস সাধারণত অপেক্ষা করে। এরপর আপনি এসি/নন এসি বাসেই ঢাকায় ফিরতে পারেন। পরদিন সকাল ৭টায় ঢাকার কল্যাণপুরে পৌঁছে যাবেন।

খরচাপাতি
জনপ্রতি আপনার খরচ পড়বে ১৫-১৬ হাজার টাকা (শপিং ছাড়া)। সময়স্বল্পতার জন্য আপনি হয়তো হা ভেলি ও বুম্থাংয়ের মতো আকর্ষণীয় জায়গায় যেতে পারেননি। হা ভেলি, বুম্থাং ঘুরলে খরচ কিছুটা বাড়বে। আর সবকিছুতে ট্যাক্সি বাদ দিয়ে পাবলিক বাসে ঘুরলে খরচ কিছু কম পড়বে কিন্তু সময় বেশি লাগবে।

লক্ষণীয়
১. ভারতীয় ভিসাসহ পাসপোর্টের কয়েকটা ফটোকপি আর পাসপোর্ট সাইজের ছবি সঙ্গে রাখবেন। ২. ন্যাশনাল আইডি কার্ডের দু-তিনটি ফটোকপি। ৪. ভুটানে সরকারি ছুটি অনেক বেশি, তাই সরকারি ছুটির লিস্ট দেখে ভ্রমণ প্লান করলে ভালো। ৫. ভুটানে কোথাও কোনো মসজিদ ও মুসলিম রেস্টুরেন্ট আপনার চোখে পড়বে না। ভুটানিজ ভাত, ডাল, সবজি খুবই মজার। তারপরও আপনার প্রয়োজন মনে হলে, বাংলাদেশ থেকেই কিছু, আচার, চাটনি, বিস্কুট নিয়ে যেতে পারেন। ৬. ভুটান শতভাগ ধূমপানমুক্ত দেশ। কিন্তু বার সবার জন্যই খোলা। কোথাও কোনো সিগারেট কিনতে পাবেন না, ধূমপানের মতো বদভ্যাস থাকলে সিগারেট সঙ্গে করে নিয়ে নেবেন। পরবর্তী সময়ে তা বারে, হোটেলে অথবা পাহাড়ে ধূমপান করতে পারবেন। কিন্তু ধরা পড়লে কোনো কথা নেই, নগদ মোটা অঙ্কের জরিমানা। তবে ধূমপান না করাই ভালো। ৭. প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বাংলাদেশ থেকেই নিয়ে গেলে ভালো হয়।

Please follow and like us:
0

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


error: Content is protected !!