সেন্টমার্টিন ভ্রমণের বিস্তারিত

ঢাকা থেকে যাওয়া আসার খরচ:

ঢাকা টু টেকনাফ বাস ভাড়া ৯০০ (নন-এসি) ১৫০০-২০০০ (এসি)

টেকনাফ টু সেন্টমার্টিন- যাওয়া আসা ভাড়া ৫৫০ থেকে শুরু, জাহাজভেদে ১০০০-১২০০ টাকা নিবে। যাওয়া আসার টিকেট একসাথেই কাটা হয়, কবে যাবেন আর কবে ফিরবেন সেটা আগে থেকে বলে দিতে হবে, সেন্টমার্টিনে ১ দিন থাকেন বা ২ দিন থাকেন, জাহাজ ভাড়া একই।

কেউ যদি টিকেটে উল্লেখিত তারিখে না ফিরে অন্যদিন ফিরতে চান তাহলে সেটাও সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে সীটের নিশ্চয়তা থাকবেনা।

ঢাকা থেকে টেকনাফগামী বাসগুলো সাধারণত সন্ধ্যা ৭টা বা ৭:৩০ এ ঢাকা থেকে রওনা দেয়, পরদিন সকাল ৭-৮ টায় জাহাজ ঘাটায়

আপনাকে নামিয়ে দিবে, ওখান থেকেই শীপ ধরতে পারবেন। সাধারণত সকাল ৯:৩০ টার দিকে শীপগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, ১১:৩০ বা ১২ টার দিকে শীপ সেন্টমার্টিনে পৌছে যায়।
বিকেল ৩ টার দিকে শীপ সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

দুপুরে বা বিকেলে টেকনাফ থেকে কোন শীপ সেন্টমার্টিন যায়না, আবার সকালেও সেন্টমার্টিন থেকে কোন শীপ টেকনাফে আসেনা, সব শীপের শিডিউল একই রকম।

শীপ মিস করলে ট্রলারে চড়ে যেতে পারেন, ভাড়া ২০০ টাকা, শুধু একপথে যাওয়া কিংবা আসা। টেকনাফ শহর থেকেই ট্রলার ছাড়ে।

ছুটির দিনগুলোতে আগে থেকেই শীপের টিকেট কেটে রাখা ভাল, অন্যান্য দিন ঘাটেই মিলবে টিকেট ।

সেন্টমার্টিনে থাকার খরচ জনপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা পড়ে, অর্থাৎ মোটামুটি মানের হোটেল বা রিসোর্টে এক রুমের ভাড়া সাধারণত ১২০০-২০০০ টাকা নেয়, এক রুমে ৪ জন থাকা যায়।টানা কয়েকদিন ছুটির দিন থাকলে রুমের ভাড়া আরো একটু বাড়তে পারে।

সেন্টমার্টিনে ৭০-৮০ টাকায় সকালের নাস্তা, ১৩০-১৮০ টাকায় দুপুরের আর রাতের খাবার খেতে পারেন সামুদ্রিক মাছ দিয়ে। রূপচান্দা দিয়ে খেতে চাইলে দামটা একটু বেশিই পড়বে। রাতের বেলা বার-বি-কিউ পার্টি করতে চাইলে জনপ্রতি ১৭০-২০০ টাকা পড়তে পারে, সেন্টমার্টিন গেলে অন্তত এক বেলা এটাও ট্রাই করে দেখতে পারেন।

ছেঁড়াদ্বীপ যাবেন অবশ্যই, এটা না দেখে ফিরবেন না।

ট্রলারে চড়ে গেলে জনপ্রতি ১৫০ টাকা নিবে ভাড়া, স্পীডবোট রিজার্ভ ১৬০০-১৮০০ টাকা নিবে যাওয়া আসা, দরদাম করে গেলে কিছুটা কমে পাওয়া যেতে পারে । একটা স্পীডবোটে ৬ জন বসা যায়। ট্রলার বা স্পীডবোট আপনার জন্যে দেড় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করবে ছেঁড়াদ্বীপে, আবার আপনাদেরকে নিয়ে ফিরে আসবে। যেখানে টেকনাফের শীপ থামে সেখানেই ছেড়াদ্বীপ যাওয়ার বোট পাওয়া যায়। ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছেঁড়াদ্বীপ ঘুরে ফিরে আসা যায়।

সাইকেল চালিয়ে বা হেঁটেও  হেটেও ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়া যায়, তবে তা ভাটার সময়, স্থানীয়দের কাছ থেকে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিতে পারেন।

      

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে যাওয়া আসা :

চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি টেকনাফের বাস আছে, সিনেমা প্যালেস (লালদীঘির পাড়) থেকে রাত ১ এবং ১.৩০ টার দিকে কিছু বাস ছাড়ে, সকালে টেকনাফ পৌঁছে, ভাড়া ৪০০ টাকা।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যেতে চাইলে শহর থেকে টেকনাফ যাওয়া লাগবে প্রথমে, ভাড়া ১৫০ টাকা নিবে। খুব ভোরে রওনা দিতে হবে, নয়তো শীপ মিস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে টেকনাফ গিয়ে শীপ ধরা সম্ভব না, প্রাইভেট গাড়িতে করে গেলে সম্ভব হতেও পারে।

অনেকেই ঢাকা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে তারপর ওইদিনই বাসে করে কক্সবাজার বা টেকনাফ গিয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন, এটা কোন মতেই সম্ভব না। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যেতেই  ৪-৫ ঘন্টা লেগে যায়, টেকনাফ তো আরো বহুদূর।

 

প্রয়োজনীয় টিপস :

.সেন্টমার্টিনে প্রতিটি ডাব ৪০-৬০ টাকায় পাবেন।

.সাইকেল ভাড়া ঘণ্টাপ্রতি ৪০ টাকা ।

.সকাল ১০-১১ টার দিকে অথবা বিকেলের কোন এক সময়ে পারলে জেটির পাশে এসে বসে থাকবেন, পানির রঙ দেখে মন ভরে যাবে।
ভ্রমণের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রবাল-শৈবাল নিয়ে আসবেন না।

.যেখানে সেখানে পানির বোতল, খালি চিপস এর প্যাকেট বা অপচনশীল জিনিস ফেলবেন না।

.শীপে চড়ে যাওয়ার সময় অনেককেই দেখা যায় চিপসের খালি প্যাকেট সমুদ্রে ফেলে দেন, এমনটা করবেন না প্লিজ, আপনার সাথে থাকা ভ্রমণসঙ্গীকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করুন।

Please follow and like us:
0

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


error: Content is protected !!