শ্বাসরুদ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হা লং বে

অনন্য ঐতিহ্য আর শ্বাসরুদ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন হল ভিয়েতনাম। যেখানে আপনার ভ্রমণ  হয়ে উঠবে নেশাময়। ভিয়েতনামের কথা শুনলেই আমাদের প্রথমে মনে পড়ে আমেরিকা ভিয়েতনামের যুদ্ধের কথা। কিন্তু দেশটির অপার সৌন্দর্যের কথা আমরা অনেকেই জানিনা । দেশটি আসলেই  প্রকৃতির বিস্ময়কর  সৃস্টি  । তবে ভিয়েতনাম বেড়াতে না গেলে সেটা বোঝা কঠিন ।

দেশি বিদেশি পর্যটকদের কাছে  ভিয়েতনামের অন্যতম আকর্ষনিয় স্থান হচ্ছে হা লং বে। বহু হলিউড মুভির সুটিং হয়েছে হা লং বে এর বিভিন্ন দ্বীপে ও পাহাড়ে।

হা মানে ভূমি আর লং মানে ড্রাগন ।একসাথে হালং মানে ড্রাগনের ভূমি এবং এই ড্রাগনটি পার্শ্ববর্তী পর্বতমালায় বাস করে বলে ভিয়েতনামিজরা বিশ্বাস  করে । হা লং বে এর অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দ্বীপের সংখ্যা অজানা এবং বেশ অনিশ্চিতও বটে কিন্তু ভিয়েতনামিজরা বলে যে  কমপক্ষে ২০০০ টি দ্বীপ আছে এখানে। উপসাগরটির আয়তন ১৫৫৩ বর্গকিলোমিটার। এর স্বচ্ছ নীল জলে রয়েছে নানা ধরনের চুনাপাথর, যা এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। আপনা্র দেখলেই মনে হবে কেউ যেন আপন কোনো খেয়ালে সাজিয়ে দিয়েছেন উপসাগরটিকে। ধারণা করা হয়, এখা্নকার চুনাপাথরগুলো সৃষ্টি হয়েছে ৫০ কোটি বছর আগে।এই উপসাগরে কিছুদূর পরপর এসব চুনাপাথরের অসংখ্য পাহাড় রয়েছে।

এখানকার গড় তাপমাত্রা ১৫-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মাঝে থাকে। হা লং উপসাগরে রয়েছে প্রায় ১৪ প্রজাতির ফুল, ২০০ প্রজাতির মাছ, মালাস্কা পর্বভুক্ত ৪৫০ ধরনের প্রাণী। সবচাইতে বেশি মজার বিষয় হচ্ছে এখানে রয়েছে চারটি ভাসমান গ্রাম। আর এই গ্রামের প্রায় সবাই মৎস্যজীবী।

এই উপসাগরটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল তা নিয়ে একটা মজার গল্প প্রচলিত আছে। ভিয়েতনাম রাষ্ট্র সূচনালগ্নে চরমভাবে উত্তর দিকে সমুদ্র হতে বহিরাগত রাষ্ট্রের দ্বারা আক্রান্ত হতো । রাজ্যর রাজা শত্রুদের আক্রমন প্রতিহত করার জন্য একটি মা ড্রাগনকে পাঠালেন শত্রুদের ধ্বংস করতে। ড্রাগন এবং তার বাচ্চারা আগুন দিয়ে শত্রুদের জাহাজ ধ্বংস করার সময় মুখের ভেতরে রাখা পান্না নিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে এই পান্নাগুলো পাথরে পরিবর্তন হয়ে তৈরী হয় ক্ষুদ্রাকৃতির ছোট ছোট দ্বীপ। শত্রুদের পরাজয়ের পর মা ড্রাগন শান্তির সমুদ্রের প্রেমে পড়ে যায় এবং এই উপসাগরে বসবাস করতে থাকে।

এখানে রাতের বোট ট্যুর কিংবা ক্রুজ আপনাকে করবে মোহময়। তায়-চির নাচ দিয়ে দিন শুরু করে, ক্যুইচিংয়ের সাথে চলতে থাকুন, তারপর দ্বীপের গুহা গুলি ঘুরে এবং নৌকায় পার্টির সাথে সূর্যাস্তের সাথে মিলিত হন … সবকিছু অবিশ্বাস্যভাবে উপভোগ্য লাগবে। তাই ভিয়েতনাম ভ্রমণে গেলে অবশ্যই হা লং বে তে এক রাত কাটিয়ে আসবেন।

১৯৯৪ সাল থেকে এই দ্বীপগুলি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ লিস্টের অধীনে সংরক্ষিত।

Please follow and like us:
0

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


error: Content is protected !!