বিশ্বের ৫ ক্ষুদ্রতম দেশের পরিচয়

ইউরোপ, ক্যারিবিয়ান এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এমন দেশ আছে যার আয়োতন ১০০ বর্গ কিলোমিটারের চাইতেও কম। তাদেরও রয়েছে নিজস্ব সরকার এবং নিজস্ব সংস্কৃতি। এই ছোট দেশ বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, সবচেয়ে দূরবর্তী, এবং সবচেয়ে চাকচিক্যময়। আজ বিশ্বের এমন ৫ ক্ষুদ্রতম দেশকে এখানে পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো।

ভ্যাটিকান সিটি– আয়তন : ০.৪৪ বর্গ কিলোমিটার

ভ্যাটিকান সিটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ। একটি গলফ কোর্ট আকারের একটি দেশ। মূলত ইতালির রোম শহরের ভিতরে অবস্থিত। এর আয়তন ০.১৭ বর্গ মাইল (০.৪৪ বর্গ কিলোমিটার) ২০০৫ সালের সালের আদম শুমারি অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ৭৮৩ জন। দেশটি এতো ছোট যে, সমগ্র দেশে একটিও রাস্তার ঠিকানা নেই। ভ্যাটিকান সিটি আয়তনে একটি ছোট দেশ হতে পারে, কিন্তু এটি খুব শক্তিশালী একটা দেশ। এটা একটি পবিত্র সার্বভৌম অঞ্চল, বা ক্যাথলিক চার্চ এর আসন (মূলত কেন্দ্রীয় সরকার), এর গঠনকারী হিসেবে এক বিলিয়ন মানুষ আছে ( যা এই গ্রহের প্রায় প্রতি ৬ জনের ১ জন)।

মনাকো – আয়তন :  ২ বর্গ কিলোমিটার

ভ্যাটিকান সিটির পরে, ফ্রান্সের প্রায় পেটের ভেতরে সেঁধিয়ে থাকা এই দেশটিই পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম। জেমস বন্ডের প্রিয় আখড়া মন্টে কার্লো ক্যাসিনো এই দেশে। হলিউড অভিনেত্রী গ্রেস কেলি এই দেশেরই যুবরাজকে বিয়ে করে শোরগোল ফেলেছিলেন সেই ১৯৫৬ সালে। এর বাইরে মনাকো মূলত বিখ্যাত কার রেসিং গ্রাঁ প্রি আর টেনিসের জন্য। এর জনসংখ্যা ৩৭৮৩১ (২০১৩)। এটি পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ।

নাউরু – আয়তন :  ২১ বর্গ কিলোমিটার

এটি পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র, নাউরু বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দ্বীপ রাষ্ট্র। ১৯৮০ সালে এ দেশ ফসফেট খনির জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে।  ফসফেট খনির জন্য এখানে জাতীয় বেকারত্বের হার ৯০% বাকি ১০% বিভিন্ন সরকারি কর্মকান্ডে জড়িত। বিশ্বের সবচেয়ে মোটা মানুষের দেশ হিসেবেও এটি পরিচিত। নাইরুর জনসংখ্যার ৪০% টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ।

টুভ্যালু – আয়তন :  ২৬ বর্গ কিলোমিটার

এটি সাধারনত এলিক্স আইসল্যান্ড হিসেবেই বেশি পরিচিত। টুভালু পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত। এখানে রয়েছে ৮ কিলোমিটার রাস্তা ও ১০০০০ বাসিন্দা। এটি একসময় ব্রিটিশদের অধীনে ছিল, পরে ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। প্রতিবছর এখানে প্রায় ২০০০ দর্শক ভ্রমনে আসে তবে তাদের প্রায় ৬৫% আসে ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যে।

সান মারিনো – আয়তন : ৬১ বর্গ কিলোমিটার

এ দেশ সম্পূর্ণরূপে ইতালি দ্বারা বেষ্টিত, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সান মারিনো, সান মারিনো প্রজাতন্ত্র হিসাবে পরিচিত। এটিকে বিশ্বের প্রাচীনতম সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করতা হয়, এর মাথাপিছু জিডিপি অনুযায়ী এটি একটি ধনবান দেশ। এটি ইউরোপের ৩য় ক্ষুদ্রতম দেশ এবং বিশ্বের মধ্যে ৫ম ক্ষুদ্রতম দেশ। এর ৩০০০০ জনসংখ্যা রয়েছে। সারাবিশ্বে সান মারিনোর বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন।

Please follow and like us:
0

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


error: Content is protected !!