বিশ্বের ১২টি উত্তেজনাময় যাত্রাপথ

প্রিন্সেস জুলিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট

আপনি কি অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন? ভ্রমণ পিপাসু? যাত্রায় এমন অভিজ্ঞতা চান যা আপনাকে থ্রিলিং অনুভূতি দেবে? তাহলে এমন কিছু যাত্রাপথের খোঁজ আপনার জেনে নেওয়া প্রয়োজন, যা সত্যিকার অর্থেই আপনাকে শিহরিত রোমাঞ্চিত করবে

প্রিন্সেস জুলিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট

একটি মাঝারি ধরনের বিমানের সাবধানে ল্যান্ড করতে সাধারণত নূন্যতম আট হাজার ফিট রানওয়ে দরকার হয় তা সত্ত্বেও প্রিন্সেস জুলিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ল্যান্ডিংয়ের জন্য রয়েছে মাত্র সাত হাজার চারশ ছাপ্পান্ন ফিট যদিও A340s এবং A747s এর মতো বিশ্বের কিছু বড় এয়ারপ্লেন এই এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে থাকে এবং শুধু এটাই নয়, এই এয়ারপোর্টে বিমান ল্যান্ড করার জন্য রানওয়েতে যেতে একটি সমুদ্র সৈকত ফেন্স পার হতে হয়

দ্য ম্যায়েকলং রেলওয়ে, থাইল্যান্ড

প্রথমে দেখে মনে হবে, এশিয়ান বাজারের মতো এটি একটি জনবহুল বাজার কিন্তু কিছুক্ষণ পরই আপনার ধারণা ভুল প্রমাণিত হবে, যখন দেখবেন দিনে কয়েকবার বাজারের মাঝেই ট্রেন চলাচল করছে বাজারটি একদমই রেললাইনের ওপরে যখনই ট্রেন আসতে থাকে তখন একটা হৈচৈ শুরু হয় দোকানিরা তাদের মালামাল রেললাইন থেকে সরানো শুরু করে, আবার ট্রেন চলে যাবার পর আগের জায়গায় নিয়ে রাখে ট্রেনটি থাইল্যান্ডের ধীরগতির ট্রেনের মধ্যে একটি যা ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যায়

দ্য ডেথ রেলওয়ে, থাইল্যান্ড

দ্য ডেথ রেলওয়ে বা বার্মা রেলওয়ে মায়ানমার থাইল্যান্ডের বর্ডারে কাঞ্চানাবুড়ি প্রদেশে অবস্থিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিদের শাসনকালে এই রেলপথটি তৈরি করা হয়েছিল রেল লাইনটি গভীর জঙ্গল এবং খাড়া উঁচু পাহাড়ের উপর দিয়ে যায় নব্বই হাজার বেসামরিক শ্রমিক এবং বারো হাজারের বেশি স্বজাতীয় কয়েদী এই ব্রীজ তৈরির সময় মারা গিয়েছিল আর তাই এর নামকরণ করা হয়েছে ডেথ রেলওয়ে

গিসবর্ন এয়ারপোর্ট, নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে এটি অবস্থিত গিসবর্ন এয়ারপোর্টকে অত্যন্ত দয়ালু বলা যায় কারণ রানওয়ের মাঝে রেলওয়ে পার হয়ে যাওয়ার সুযোগ সব এয়ারপোর্ট দেয় না দ্য পালমারস্টন নর্থ গিসবন লাইন দিয়ে ট্রেন সারাদিন যাওয়াআসা করতে থাকে এবং এয়ারপোর্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সবসময়ই যেকোনো দুর্ঘটনা না ঘটার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন তারপরও কখনো কখনো দেখা যায় ট্রেন প্লেন একসাথেই পথ ক্রস করে থাকে

গোউলিয়াং টানেল রোড ,চায়না

চায়নার হুইশিয়ান, শিনশিয়াং, হেনান এলাকায়  এটি অবস্থিত ১৯৭০ সালে এই ১৬ ফিট উঁচু এবং ১৩ ফিট চওড়া পাহাড়ের রাস্তা ১৩টি লোকাল গ্রামের জনগণ মিলে তৈরি করেছিল নির্ভুল এই রাস্তাটি পৃথিবীর অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ভয়ংকর রাস্তা

সাবা এয়ারপোর্টপৃথিবীর সবচেয়ে ছোট রানওয়ে

এই এয়ারপোর্টকে  ল্যান্ড করার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর এয়ারপোর্ট হিসেবে মানা হয় সাবা এয়ারপোর্ট ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ডে অবস্থিত যা নেদারল্যান্ড রাজ্যের দেশ চারশ মিটার দৈর্ঘ্যের এই এয়ারপোর্টের রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট রানওয়ে এই রানওয়ে পাইলটদের জন্য একপ্রকার চ্যালেঞ্জের বিষয় একটি ছোট্ট ভুলের কারণেও প্রাণনাশের ঘটনা ঘটে যেতে পারে

ত্রেন লাস নুবেস, আর্জেন্টিনা

এই রেললাইনটি আন্দিজ পাহাড় দিয়ে গিয়ে আর্জেন্টাইন নর্থওয়েষ্ট এবং চিলি সীমান্তকে সংযুক্ত করেছে ট্রেনটি ইস্টার্ন সালটাএন্টোফাগাস্টা দিয়ে যায় এবং এটি বেলগ্রানো রেলওয়ে কোম্পানিরও অংশ এটি সমুদ্র থেকে ,২২০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত তাই এটি পৃথিবীর পঞ্চম সর্বোচ্চ রেলওয়ে হিসেবে পরিচিত

চেন্নাইরামেশওয়ারাম রেলওয়ে, ভারত

এই রেললাইনটি রামেশওয়ারাম দ্বীপকে দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় প্রদেশ চেন্নাইয়ের সাথে যুক্ত করেছে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্ট্যাটাসকে টেক্কা দেওয়ার জন্য ১০৩ বছর বয়সী এই ব্রিজের রয়েছে খুবই নিচু ক্যান্টিলিবার্স এবং এর দৈর্ঘ্য ,০৬৫ মিটার যখন এই ব্রিজে ট্রেনটি চলতে থাকে তখন ট্রেন থেকে নিচের পানি ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না

বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ

অত্যধিক জনবহুল এবং ট্রেনের ছাদে বসে যাতায়াতের চিত্র খুবই কমন বাংলাদেশ ট্রেনের বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল একটি দেশ কিন্তু ট্রেন যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই দুর্বল তাই জনগণকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও এভাবেই  যাতায়াত করতে হয়

এন্টার্ক্টিকাএকটি পিচ্ছিল এবং বরফের রানওয়ে

বরফে ল্যান্ড করার ক্ষেত্রে খুবই আতঙ্কের একটি বিষয় হলো প্লেনের ওয়েট নিয়ে নামা প্রত্যেকটি প্লেনের ক্ষেত্রেই বরফে ল্যান্ড করার সময় বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয় যেন বরফ আটকে না যায় আর বরফ জমে যাওয়া সেটাও আরেকটা বিষয়

দ্য জেমস ডব্লিও ডালটন হাইওয়ে

এই হাইওয়েটি আলাস্কা এলিভেন হাইওয়ে নামেও পরিচিত এবং এটি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং রোডগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ৪১৪ মাইলের এই হাইওয়ে রোড শুরু হয়েছে ফেয়ারব্যাঙ্কসের এল্লিয়ট হাইওয়ে থেকে এবং শেষ হয়েছে আর্কটিক সমুদ্রের কাছে ডেডহর্সে গিয়ে এই হাইওয়েতে বড়জোড় এক হাজারের মতো বাসিন্দা রয়েছে এবং ফিলিং স্টেশন রয়েছে ৩টি

ভিটিম রিভার ব্রিজ

এটি অবস্থিত সাইবেরিয়াতে, ভিটিম রিভার লিনা রিভারের একটি উপনদী নদীর উপর এই ফিটের ব্রিজে গাড়ি চলাচল করে খুব সাবধানে এবং জেনে রাখা ভালো, এই ব্রীজের সাইডে কোনো রেলিং বা বাঁধানো কোনো কিছু নেই ৫৭০ মিটার লম্বা এই ব্রিজে চড়লেই জমে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়মরিচা ধরা ধাতুর বিম আর কাঠের তক্তা দিয়ে বানানো স্লিপারি একটি ব্রিজ, তাও আবার কোনো রেলিং ছাড়া সেখানে বাইক বা গাড়ি নিয়ে চলতে আপনার মধ্যে কতটা উত্তেজনা কাজ করবে একটু ভেবেই দেখুন!

Please follow and like us:
0

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


error: Content is protected !!