বিমানের ভেতর যাত্রীদের কেন ওষুধ দেওয়া হয় না ?

বিমানের অভ্যন্তরে ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্টদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রত্যেক যাত্রীকে নিরাপদ রাখা। আক্রমণের সম্মুখীন হলে আত্মরক্ষার কৌশলও জানা থাকতে হয় বিমানবালাসহ কেবিন ক্রু সদস্যদের। তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়। এদের কেউ কেউ সন্তান প্রসব করাতেও সক্ষম।

যেকোনও মেডিক্যাল পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বিমানের ভেতরে ফার্স্ট এইড বক্স রাখা হয়। তবুও যাত্রীরা কেউ অসুস্থতা বোধ করলেও তাদের ওষুধ দেওয়া হয় না! একজন ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট এমন তথ্য স্বীকার করেছেন।

আমেরিকান ওয়েবসাইট রেড্ডিটে একজন প্রশ্ন করেন, বিমান ভ্রমণের সময় যাত্রীরা জানে না এমন কোন বিষয় আছে? এর উত্তরে একজন কেবিন ক্রু সদস্য বলেন, ‘ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্টদের ব্যক্তিগত ট্রলিতে অ্যাসপিরিন থেকে শুরু করে জেনেরিক ওষুধ থাকে। কিছু এয়ারলাইনস আকাশযানের কেবিনে ফার্স্ট এইড কিটসও সরবরাহ করে। কিন্তূ বিমানবালাদের সেসব কোনও যাত্রীকে দেওয়ার অনুমতি নেই। কারণ কোনও কেবিন ক্রু সদস্যের দেওয়া ওষুধ সেবনের কারণে যাত্রী অসুস্থ হতে পারে এমন আশঙ্কা করে কর্তৃপক্ষ।’

সুতরাং যাদের মাথাব্যথা কিংবা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা রয়েছে, তারা ফ্লাইট ক্রুদের কাছ থেকে ওষুধ আশা না করাই ভালো। যদিও জরুরি মেডিক্যাল অবস্থার সম্মুখীন হলে বিমানবালারা যাত্রীদের ওষুধ দিয়ে থাকেন। তাদের একজন বলেন, ‘যদি বিমানের অভ্যন্তরে কোনও চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন, তাহলে আমরা ওষুধ দেওয়ার অনুমতি পাই। চিকিৎসক যদি বলেন, এই ওষুধ দেওয়া যেতে পারে তাহলেই কেবল আমরা তা সরবরাহ করি।’

সাবেক বিমানবালা শন ক্যাথলিন ইয়াহুকে নিশ্চিত করেছেন, ‘ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্টরা একটি অ্যাসপিরিনও দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। নিয়ম অনুযায়ী তাদের এই অনুমতি নেই।’

যাত্রীরা যাদের ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োজন তারা তা সঙ্গে নিতে পারেন। বিমানযাত্রায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তখন তা অনায়াসে সেবন করা যায়। তবে কিছু ওষুধ কোনও কোনও দেশে নিষিদ্ধ পণ্য হিসেবে দেখা হয়। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা চাই। তা না হলে যাত্রীকে উটকো ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানে ঠাণ্ডা ও ফ্লুজনিত ওষুধ নিষিদ্ধ। এসব দেশে ওই ওষুধ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে জেলেও যেতে হয়। তাই মেডিক্যাল নোট কিংবা প্রেসক্রিপশন সবসময় সঙ্গে রাখা ভালো।

Please follow and like us:
0

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


error: Content is protected !!