বান্দরবান ভ্রমণের আদ্যোপান্ত

ঢাকা থেকে ৩৭৬ এবং চট্টগ্রাম থেকে ৭৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এর আয়তন ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার। পুরো বান্দরবান জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। বান্দরবানের বুকচিরে সর্পিল ঢঙয়ে বয়ে চলেছে সাঙ্গু নদী। বর্ষার পাহাড়ি ঢলে পূর্ণ যৌবন লাভ করে এই নদী। অন্যদিকে অবারিত সবুজের সমারোহ নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ পর্বতমালা। যেখানে বর্ষায় লুকোচুরি করে মেঘমালা। পাহাড়ের গা চুয়ে ঝরে পড়ে ঝর্ণা। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পৃথিবীর অনেক সুন্দর দেশকেও হার মানায়। তবে আর দেরি কেন? আজই বাক্স-পেটরা গুছিয়ে চলে আসুন বাংলাদেশের রূপবতী-পাহাড়কন্যা বান্দরবানে। চলুন জেনে নিই বান্দরবানে কিভাবে কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন এসব আদ্যোপান্ত।

যাতায়াত : ঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর রেলস্টেশন, সায়েদাবাদ বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এস আলম,হানিফ পরিবহন,ইউনিক পরিবহন,শ্যামলী পরিবহন,ডলফিন, সেন্টমার্টিন পরিবহন, ঈগল পরিবহনে সরাসরি বান্দরবান আসা যায়। এছাড়া বাস বা ট্রেনে চট্টগ্রাম এসে সেখান থেকে বাসে অথবা ভাড়া করা গাড়িতে বান্দরবান যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়েও বান্দরবান যেতে পারেন । চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে পূরবী এবং পুর্বাণী নামে দুটি সরাসরি ননএসি বাস আছে। এগুলো ৩০ মিঃ পর পর বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১১০ টাকা।

কি কি দেখবেন বান্দরবানে


নীলগিরি : নীলগিরি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র। এ পর্যটন কেন্দ্রের উচ্চতা প্রায় ৩ হাজার ফুট। বান্দরবানে জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এই পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। নীলগিরির পাশেই রয়েছে ম্রো উপজাতী পল্লী। যাদের বিচিত্র সংস্কৃতি দেখার মত। বর্ষা মৌসুমে নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্র থেকে মেঘ ছোয়ার দূর্লভ সুযোগ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরি থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র এটি। এটি সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এর পাশেই রয়েছে একটি সেনা ক্যাম্প। নিরিবিলিতে স্বপরিবারে কয়েক দিন কাটাতে এটি একটি আর্দশ জায়গা।নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবান জেলা সদর থেকে দিনে গিয়ে দিনেও ফিরে আসা যায়। নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে রাত যাপনের জন্য বান্দরবান সদর সেনা রিজিয়নে বুকিং দেয়া যায়। তাছাড়া নীলগিরিতে গিয়েও সরাসরি বুকিং করা যায়। বান্দরবান জেলা সদর থেকে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় অধিকাংশ পর্যটক দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসেন।

এখানে মেঘদূত এবং নীলাঙ্গনাসহ বিভিন্ন নামে বেশ কয়েকটি কটেজ রয়েছে। ভাড়া ৬ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে একমাস আগে বুকিং দিতে হয় সেনা রিজিয়নের মাধ্যমে।

কি ভাবে যাবেন : পর্যটকদের নীলগিরি যেতে হলে বান্দরবান জেলা সদরের রুমা জীপ স্টেশন থেকে থানছিগামী জীপ অথবা বাসে করে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া যায়। বান্দরবান জীপ স্টেশন থেকে জীপ, ল্যান্ড রোভার, ল্যান্ড ক্রুজারসহ অন্যান্য হালকা গাড়ি ভাড়ায় পাওয়া যায়। নীলগিরি যাওয়ার পথে সেনা চেকপোষ্টে পর্যটকদের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। বান্দরবান জেলা সদর থেকে সাধারণত বিকেল ৫ টার পর নীলগিরির উদ্দেশে কোন গাড়ী যেতে দেয়া হয় না।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র : বান্দরবান শহরের প্রবেশদ্বার বান্দরবান কেরাণীহাট সড়কের পাশেই পার্বত্যজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স অবস্থিত। পাহাড়ের খাদে বাধঁ নির্মান করে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি করা হয়েছে এখানে।বান্দরবান শহর থেকে এর দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। বেড়াতে আসা পর্যটকদের চিত্ত্ব বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে শিশুপার্ক, নৌকা ভ্রমনের সুবিধা, ঝুলন্ত সেতুর মাধ্যমে চলাচলের ব্যবস্থা এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য একটি রেস্টহাউস। এছাড়া আকর্ষণীয় একটি চিড়িয়াখানা এ কমপ্লেক্সের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ। মেঘলায় ২টি ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে এবং একটি ক্যাবল কার। জনপ্রতি ৫০/-মূল্যে টিকেট নিয়ে প্রবেশ করতে হয় এখানে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয়। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে সারাদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে আসেন। নিরিবিলিতে স্বপরিবারে বেড়ানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা ।

যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়া : মেঘলায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের খাবার ও রাত্রিযাপনের জন্য বান্দরবান শহরে বেশ কিছু মাঝারি মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের খাবার ও রাত্রিযাপনের জন্য পাশেই রয়েছে সু-ব্যবস্থা। মেঘলার পাশেই রয়েছে বান্দরবান পর্যটন মোটেল ও হলিডে ইন নামে দুইটি আধুনিক মানের পর্যটন কমপ্লেক্স। বান্দরবান বাস স্টেশন থেকে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স যেতে লোকাল বাসে জনপ্রতি ১০- টাকা এবং টেক্সি রিজার্ভ ১০০ টাকা, আর ল্যান্ড ক্রোজার, ল্যান্ড রোভার ও চাঁদের গাড়ি ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।

শৈলপ্রপাত : পাহাড়ের অপূর্ব সৃষ্টি ছন্দময় শৈলপ্রপাত। বান্দরবান-রুমা সড়কের ৮ কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব স্থান। ঝর্ণার হিমশীতল পানি এখানে সর্বদা বহমান। এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং হীম শীতল। বর্ষাকালে এ ঝর্ণার দৃশ্য দেখা গেলেও ঝর্ণাতে নামা দুস্কর, বছরের বেশিরভাগ সময় দেশি-বিদেশি পর্যটকে ভরপুর থাকে এই স্থান। রাস্তার পাশে শৈল প্রপাতের অবস্থান হওয়ায় এখানে পর্যটকদের ভিড় বেশী দেখা যায়। এখানে দুর্গম পাহাড়ের কোল ঘেষা আদিবাসী বম সম্প্রদায়ের সংগ্রামী জীবন প্রত্যক্ষ করা যায়। বান্দরবান শহর থেকে টেক্সি, চাঁদের গাড়ি কিংবা প্রাইভেট কার ও জীপ ভাড়া করে শৈলপ্রপাতে যাওয়া যায়। শহর থেকে জীপে ৬০০-৭০০ টাকা এবং চাঁদের গাড়ীতে ৫০০ টাকা লাগবে শৈলিপ্রপাত যেতে।

বৌদ্ধ ধাতু জাদি

বান্দরবান জেলা থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে পুরপাড়ায় বান্দরবান-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে বৌদ্ধ ধাতু জাদি অবস্থিত। বান্দরবান স্বর্ণ মন্দির নামে পরিচিত বৌদ্ধ ধাতু জাদি হল একটি থেরাভাডা বৌদ্ধ বিহার। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ থেরাভাডা বৌদ্ধ মন্দির। এখানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে।

স্থানীয় ভাষায় বৌদ্ধ মন্দিরকে বলা হয় খিয়াং। বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী এবং থেরাভাডা বৌদ্ধধর্মের অনুসারীদের জন্য বৌদ্ধ ধাতু জাদিকে একটি অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরাকান থেকে আগত বান্দরবানের আদিবাসী মারমা এবং মগ হল প্রভাবশালী।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবানে বাস চলাচল করে। তবে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে যেতে চাইলে আপনাকে প্রথমে চট্রগ্রামে যেতে হবে। বান্দরবানে রিকশা অথবা অটোরিকশা ভাড়া করে ঘুরতে পারবেন এবং এই মন্দিরে আসতে পারবেন।

 

মিলনছড়ি : বান্দরবান শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে রুমা সড়কের পাশেই এর অবস্থান। প্রায় ১০ একর জায়গার উপর নির্মিত এই বেসরকারী পর্যটন কেন্দ্রটি দেশে বিদেশে খুবই জনপ্রিয়। নদী, পাহাড়, ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই কেন্দ্রটি এমন এক জায়গায় অবস্থিত যেখানে অবস্থান করে বর্ষায় রোদ আর মেঘের মিতালী দেখা যায়। এখানে রেগ্রিক্ষং নামে একটি রেস্তুরাঁ আছে। রুচিসম্মত খাবার পাওয়া যায় সবসময়। উন্নত নির্মাণশৈলী এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে অত্যাধুনিক বিভিন্ন কটেজ ও রয়েছে। যাতে রাত যাপন করা যায় খুব আরামে।

চিম্বুক : বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত। চিম্বুক সারা দেশের কাছে একটি পরিচিত নাম। বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২ হাজার ৫ শত ফুট। চিম্বুক যাওয়ার রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ি দৃশ্য খুবই মনোরম। চিম্বুক যাওয়ার পথে সাঙ্গু নদী চোখে পড়ে। পাহাড়ের বুকে আঁকা বাঁকা পথ বেয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক দিয়ে এতে যাতায়াত করলে মনে হবে গাড়ীতে করে চাঁদের বুকে পাড়ি জমানোর অনুভূতি। ২৫০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে এ অপরূপ বিচিত্র সৌন্দর্য দেখতে পাবেন চিম্বুকে।

চিম্বুক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের নিচ দিয়ে মেঘ ভেসে যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা যায়।এখান থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এর বিভিন্ন উপজেলাগুলোকেও দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে চিম্বুক পাহাড়ের পাশ দিয়ে ভেসে যাওয়া মেঘ দেখে মনে হবে মেঘের স্বর্গরাজ্য চিম্বুক। মেঘের হালকা হীম ছোঁয়া মেঘ ছোয়ার অনুভূতি জাগাবে আপনার মনে। চিম্বুককে বাংলার দার্জিলিং বলা হয়।

চিম্বুক থানছি সড়কের দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে হোটেল বা রেস্তোরাঁগড়ে ওঠেনি। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি রেষ্টহাউস আছে এখানে। যাতে জেলা প্রশাসকের অনুমোতিক্রমে রাত্রি যাপনের সুযোগ রয়েছে। চিম্বুকের পাশে সেনাবাহিনীর ক্যান্টিন রয়েছে। এখানে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া খাবারের জন্য বান্দরবান থেকে চিম্বুক যাওয়ার পথে মিলনছড়ি ও শাকুরা নামে ২টি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। তাছাড়া চিম্বুক যাওয়ার সময় বান্দরবান থেকে হালকা খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ায় উত্তম।

কিভাবে যাবেন : চিম্বুক যেতে হলে বান্দরবান শহরের রুমা বাস স্টেশন থেকে চাঁদের গাড়ি হিসেবে পরিচিত জিপ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, পাজেরো এবং বান্দরবান-থানছি পথে যাতায়াতকারী বাস ভাড়া নিতে হবে (স্পেশাল বাস যা দূর্গম পাহাড়ী পথে চলাচল করতে সক্ষম)। নিজস্ব গাড়ি হলে ভাল হয়। রাস্তা দূর্গম হওয়ায় বাসে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ। চাঁদের গাড়িতে রিজার্ভ ২০০০-২৫০০ টাকা মত নিয়ে থাকে।

বগালেক : সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বগালেক। কেওক্রাডং এর কোল ঘেঁষে বান্দারবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। পাহাড়ের উপরে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে এই লেক অবস্থিত। এর পানি দেখতে ঘন নীল রঙের। এ লেকের পাশে বাস করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র উপজাতী বম ও খুমী সম্প্রদায়। অদ্ভুত সুন্দর এই নীল রঙের লেকের সঠিক এর গভীরতা বের করা যায়নি। স্থানীয়ভাবে দুইশ থেকে আড়াইশ ফুট বলা হলেও সোনার মেশিনে ১৫১ ফুট পর্যন্ত গভীরতা পাওয়া গেছে। এটি সম্পূর্ণ আবদ্ধ একটি লেক। এর আশেপাশে পানির কোন উৎসও নেই। তবে বগালেক যে উচ্চতা অবস্থিত তা থেকে ১৫৩ মিটার নিচে একটি ছোট ঝর্ণার উৎস আছে যা বগাছড়া নামে পরিচিত। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে লেকের পানি প্রতি বছর এপ্রিল থেকে মে মাসে ঘোলাটে হয়ে যায়। রাত্রি যাপনের জন্য বগালেকে জেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি রেস্টহাউস নির্মান করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বম উপজাতী সম্প্রদায় কিছু ঘর ভাড়ায় দিয়ে থাকে । বগালেকের পাড়েই বসবাসরত বম সম্প্রদায় পর্যটকদের জন্য রান্না-বান্নার ব্যবস্থা করে থাকে। রুমা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ক্রয় করে নেওয়াই শ্রেয়। উল্লে¬খ্য যে, নিরাপত্তার জন্য রুমা ও বগালেক সেনাক্যাম্পে পর্যটকদের রিপোর্ট করতে হয়। স্থানীয় গাইড ছাড়া পায়ে হেটে রুমা থেকে অন্য কোন পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া উচিত নয়।

কি ভাবে যাবেন : শুষ্ক মৌসুমে বান্দরবান জেলা সদরের রুমা জীপ স্টেশন থেকে রুমাগামী জীপে করে রুমা সেনা গ্যারিসন (রুমা ব্রিজ) পর্যন্ত যাওয়া যায়। সেখান থেকে নৌকায় করে ২০ মিনিট পথ পাড়ি দিয়ে রুমা উপজেলা সদরে যেতে হয়। ইচ্চে করলে কইক্ষ্যংঝিরি দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে প্রায় ১ ঘন্টার অধিক পথ পাড়ি দিয়ে রুমা সদরে যাওয়া যায়। রুমা থেকে পায়ে হেঁটে অথবা জীপে করে বগালেক যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বগা লেক যাওয়া নিতান্তই কষ্টসাধ্য তাই বগালেক ভ্রমনে শীতকালকে বেছে নেওয়া ভাল। বান্দরাবন থেকে রুমা উপজেলা সদরে যেতে খরচ হবে জন প্রতি ১০০ টাকা- অথবা পুরো জিপ ভাড়া করলে ৩০০০ টাকা।

জাদিপাই জলপ্রপাত : কেওক্রাডং থেকে পায়ে হেঁটে ১ ঘন্টায় জাদিপাই জলপ্রপাতে পৌছানো যায়। কেওক্রাডং থেকে নিচে নামতে হয় যাওয়ার সময়। ফিরে আসার সময় উপরে উঠতে হয় বিধায় সময় ২ ঘন্টা মত লাগে। তবে নিচে নামাটাই বিপজ্জনক। শেষের কিছু অংশ বেশ পিচ্ছিল। দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। যাওয়ার সময় জোঁকের কামড় অবধারিত। সাথে অবশ্যই গাইড নিতে হবে। কেওক্রাডং এর পাশে কিছু ঘর তুলে হোটেলের মত থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা। খাওয়ারও ব্যবস্থা আছে।

প্রান্তিক লেক : চট্টগ্রাম-বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত প্রান্তিক লেক বান্দরবান-কেরাণীহাট সড়কের হলুদিয়ার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। কেরাণীহাট থেকে ২০ মিনিট গাড়ি চালালে এ লেকে পৌঁছানো সম্ভব। জেলা সদর থেকে প্রান্তিক লেকের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। ৬৮ একর জায়গা জুড়ে এ বৃহৎ লেকের অবস্থান। এখানে পর্যটকদের নিজেদের খাবার ও পানি নিয়ে যাওয়াটাই উত্তম। রাত্রি যাপনের জন্য মেঘলা অথবা বান্দরবান শহরে ফিরে যেতে হবে। বান্দরবান শহর থেকে কেরাণীহাটগামী বাসে হলুদিয়া নামক স্থানে নেমে টেক্সি বা রিক্সা করে ৩ কিলোমিটার যেতে হবে। বান্দরবান শহর থেকে টেক্সি বা ল্যান্ড ক্রুজার রির্জাভ করে নিয়ে যাওয়া যায়। ল্যান্ড ক্রুজার বা চাঁদের গাড়ী রির্জাভ ৮০০-৯০০, টেক্সি ৫০০ টাকা নিয়ে থাকে।

রিঝুক জলপ্রপাত : প্রাকৃতিক পাহাড়ি পানির অবিরাম এ ধারাটি জেলা সদর হতে ৬৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে রুমা উপজেলায় অবস্থিত। নদী পথে রুমা হতে থানচি যাওয়ার পথে সাঙ্গু নদীর পাড়ে ৩০০ ফুট উচু থেকে সারা বছরই এ জলপ্রপাতটি রিমঝিম শব্দে ঝরে পড়েছে। রুমা হতে ইঞ্জিনচালিত দেশি নৌকায় সহজেই এ স্থানে যাওয়া যায়। মার্মা ভাষায় একে রী স্বংস্বং বলা হয়। রুমা বাজার থেকেও নৌকা ভাড়া করে যাওয়া যায়। নৌকা ভাড়া -১০০০ টাকা।

নাফাখুম জলপ্রপাত : বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি স্থানটি সাঙ্গু নদীর উজানে একটি মারমা বসতি। মারমা ভাষায় খুম মানে হচ্ছে জলপ্রপাত। রেমাক্রি থেকে তিন ঘন্টার হাঁটা পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় আশ্চর্য্য সুন্দর সেই জলপ্রপাতে, যার নাম নাফাখুম। রেমাক্রি খালের পানি প্রবাহ এই নাফাখুমে এসে বাঁক খেয়ে হঠাৎ করেই নেমে গেছে প্রায় ২৫-৩০ ফুট নিচে প্রকৃতির খেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে চমৎকার এক জলপ্রপাত! সূর্যের আলোয় যেখানে নিত্য খেলা করে বর্ণিল রংধনু! ভরা বর্ষায় রেমাক্রি খালের জলপ্রবাহ নিতান্ত কম নয়। প্রায় যেন উজানের সাঙ্গু নদীর মতই। পানি প্রবাহের ভলিউমের দিক থেকে সম্ভবতঃ নাফাখুম-ই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত।

কিভাবে যাবেন : বান্দরবান শহর থেকে থানচি উপজেলা সদরের দূরত্ব ৮৫ কিঃমিঃ। রিজার্ভ চাঁদের গাড়ীতে বান্দরবান থেকে থানচি যেতে সময় লাগবে ৩ ঘন্টা,ভাড়া নেবে ৪ হাজার টাকা। থানচি থেকে রেমাক্রি নৌকায় যাওয়া-আসা,ভাড়া চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। বর্ষায় ইঞ্জিনবোটে থানচি থেকে তিন্দু যেতে সময় লাগবে আড়াই ঘন্টা। তিন্দু থেকে রেমাক্রি যেতে লাগবে আরও আড়াই ঘন্টা। এই পাঁচ ঘন্টার নৌ-পথে আপনি উজান ঠেলে উপরের দিকে উঠতে থাকবেন। শীতের সময় ইঞ্জিন বোট চলার মত নদীতে যথেষ্ট গভীরতা থাকেনা। তখন ঠেলা নৌকাই একমাত্র বাহন। বর্ষা মৌসুমে তিন দিনের জন্য ইঞ্জিনবোটের ভাড়া পড়বে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। আর শীত মৌসুমে ঠ্যালা-নৌকার ভাড়া পড়বে প্রতি দিনের জন্য ১০০০ টাকা।

থাকা-খাওয়া : থাকার জন্য যেতে হবে তিন্দু, রেমাক্রি। মারমাদের বাঁশ-কাঠের বাড়ীতে অনায়াসে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে আপনাদের। মারমাদের প্রায় প্রতিটি বাড়ীতেই খুব অল্প টাকায় এমন থাকা-খাওয়ার সুবিধে রয়েছে। তিনবেলা খাওয়ার খরচ পড়বে জনপ্রতি ২০০ টাকা, আর থাকার জন্য প্রতি জন ১৫০ টাকা।

রেমাক্রিখুম : রেমাক্রি বাজার থেকে দুইভাবে নাফাখুম-এ যাওয়া যায়। একঘন্টা উঁচু-নীচু পাহাড়ী পথ ডিঙিয়ে তারপর রেমাক্রি খালের পাড় ধরে বাকিটা হেঁটে চলা। এই পথে গেলে নাফাখুমে পৌঁছাতে আপনার সময় লাগবে চার ঘন্টা। রেমাক্রি খাল ক্রস করতে হবে তিন বার, যার মধ্যে শেষবার আপনাকে সাঁতার কেটে পানি পেরুতে হবে। আপনি পাহাড় না ডিঙিয়ে গোটা পথই রেমাক্রি খালের পাশ দিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে নৌকা করে রেমাক্রি খালের মুখে (যেখানে রেমাক্রি খাল সাঙ্গুতে পড়েছে,রেমাক্রিখুম) যেতে হবে আপনাকে, তারপর খালের পাড় দিয়ে হাঁটা পথে নাফাখুম বরাবর। এই পথে আপনাকে চার বার খালটি ক্রস করতে হবে।.তবে সময় লাগবে তিন ঘন্টা। তবে দ্বিতীয় পথেই যাওয়া উত্তম। এতে আপনার সময় ও এনার্জী দুটোই ব্যয় হবে কম। আর শীতের দিনে গেলে খাল ক্রস করার ঝামেলাই নেই। গোটাটাই আপনি ঝিরিপথ দিয়ে হেঁটে যেতে পারবেন। তবে শীতকালে নাফাখুম-এর এই পূর্ণ সৌন্দর্য্য উপভোগ করার সুযোগ হবেনা। পানি প্রবাহ অনেক কমে যাবে তখন।

জীবন নগর : বান্দরবান-চিম্বুক-থানছি সড়কের আকাঁবাঁকা পাহাড়ী রাস্তার ৫২ কিলোমিটার পয়েন্টে জীবন নগর অবস্থিত। এখানে সুর্যোদয়ের দৃশ্য খুব মনোমুগ্ধকর। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে হলে জীবন নগরে গেলেই চলে। চিম্বুক গেলে বেশিরভাগ পর্যটকরা জীবন নগরের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে আসেন।

রামজাদী : বান্দরবান-রোয়াংছড়ি উপজেলা সড়কে পাশে কালাঘাটা এলাকায় এর অবস্থান। উঁচু পাহাড়ের চুড়াঁর উপর তৈরি সুদৃশ্য জাদী। এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র প্রার্থনাস্থান। এখানে দেশ বিদেশ থেকে অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেখতে এবং প্রার্থনা করতে আসেন। এর আরেক নাম মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বুদ্ধধাতু চেতী। গৌতম বুদ্ধের সম সাময়িক বলে নির্মিত বিশ্বের সেরা কয়েকটি বুদ্ধমুর্তির মধ্যে একটি রয়েছে এখানে। এই জাদীটি দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার সেরা বলে জানা যায়। এই জাদী থেকে বান্দরবানের সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায়।

কিভাবে যাবেন : জেলা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে যেতে হবে। শহর থেকে টেক্সি বা ল্যান্ড ক্রুজার রির্জাভ করে নিয়ে যাওয়া যায়। ল্যান্ড ক্রুজার বা চাঁদের গাড়ী রির্জাভ ৫০০ টাকা টেক্সি ৩০০ টাকা নিয়ে থাকে। অথবা পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। এতে সময় লাগবে ১ ঘন্টা।

শীলকুম : বান্দরবান বাসস্টেশন সংলগ্ন কসাইপাড়ার পাশ্ববর্তী সদাপ্রবাহমান এই ঝর্ণাটি অবস্থিত। ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাকের সাথে তাল মিলিয়ে শীলকুম নামের এ ঝর্ণাটি জেলা শহরের বাসস্টেশন কাশেম পাড়া ও কসাইপাড়া এবং আমতলী এলাকার হাজার হাজার লোকজনের খাওয়ার পানি, নিত্যব্যবহারের পানি যোগান দিয়ে থাকে। এই ঝর্ণাটি শীলাবৃত বলে এর নাম শীলকুম। এর গভীরতা ও খুব বেশী। কথিত আছে এই কুমে একটি পানি পরী বাস করে। এই ঝর্ণাটি প্রকৃতি প্রেমি ও পর্যটকদের আনন্দ দেয়।

থানচি : এখান থেকেই সাঙ্গু নদ তার নিজের রূপে মোহিত করে ভ্রমণপিপাসু মানুষকে। এখানে আকাশের সঙ্গে নদীর সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। থানচির ভোর বাংলাদেশের আর সব জায়গার ভোর থেকে আলাদা। খুব ভোরে এখানে আপনি মেঘের জন্য কিছুই দেখতে পাবেন না। আস্তে আস্তে বেলা যখন বাড়তে থাকবে,তখন মেঘগুলো আপনার শরীর ছুঁয়ে গ্যাসবেলুনের মতো উঠে যাবে ওপরের দিকে। বান্দরবানের বর্ণিল সৌন্দর্যের প্রবেশদ্বার হলো এই থানচি। থানচির অর্থ হলো,বিশ্রামের স্থান।

কীভাবে যাবেন : বান্দরবান শহর থেকে থানচির উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায় সকাল আটটা,সাড়ে ১০টা,দুপুর ১২টা ও বেলা ৩টায়। ভাড়া সম্প্রতি ২০০ টাকা। এছাড়া চাঁন্দের গাড়ি করে রিজার্ভ যেতে পারেন। খরচ পড়বে চার হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মতো।

নীলাচল : বান্দরবানে আগত পর্যটকদের কাছে এটি আর্কষণীয় পযটন স্পট। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় নীলাচলের অবস্থান। যারা কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত এবং চট্টগ্রাম বন্দর দেখেছেন তার বিপরীতে পাহাড়ের সমুদ্র দেখতে চাইলে আপনাকে আসতে হবে এখানে। স্থানটির অতীতে নাম টাইগার পাড়া হলেও বর্তমানে এটি নীলাচল হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। এখানে নির্মান করা হয়েছে টাওয়ার, রেস্ট হাউস, রেস্টুরেন্ট। জেলা শহর থেকে ৪ কিলোটিার দুরে টাইগার পাড়ার কাছে পাহাড়ের একটি অংশে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়।ভ্রমণে আসা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে তোলার জন্য নীলাচলকে সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। যা পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। এসব কারণে নীলাচলে আগের চাইতে পর্যটকদের সংখ্যাও বেড়েছে। নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ছোট ছোট বসার স্থান, মার্বেল পাথর আর পাহাড়ী ঝিরি-ঝর্ণার পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নানা স্থাপনা যা দেখার মত। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে জেলা প্রশাসন থেকে এসব তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও পর্যটকদের থাকার জন্য কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে নীলাচলে।

কি ভাবে যাবেন : বান্দরবান শহরের বাসস্টেশন থেকে জিপ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার ভাড়া নিয়ে যেতে হবে অথবা বান্দরবান শহরের সাঙ্গু ব্রিজের কাছে টেক্সি স্টেশন থেকে টেক্সি ভাড়া নিয়ে নীলাচল ও শুভ্রনীলায় যেতে পারেন । জীপ,ল্যান্ড ক্রুজার,ল্যান্ড রোভার ৬০০-৭০০ টাকা, টেক্সি ৪০০ টাকা নিয়ে থাকে।

সাঙ্গু নদী : সাঙ্গু নদীর দুই কূলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য খুবই অপরূপ। সাঙ্গুতে নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত দেশি বোটে চড়ে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অবলোকন করার মজাই আলাদা। সেইসাথে উঁচু পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদীর অপূর্ব সৌন্দর্য্য চোখে পড়ে। শহর থেকে একটু দূরে ভাটির দিকে সীতামুড়া পাহাড় দেখতে পর্যটকদেরকে আকৃষ্ট করে। সাঙ্গুতে ভ্রমণের জন্য জেলা শহরের ট্ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন বালাঘাটা ব্রীজের নীচে এবং কেচিং ঘাটায় পাওয়া যায় নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত দেশি বোট।

কেওক্রাডং : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ হল কেওক্রাডং। এর উচ্চতা ৪ হাজার ৩ শত ৩২ ফুট। রুমা উপজেলায় অবস্থিত এই পর্বতশৃঙ্গের দুরত্ব উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ দুরে অবস্থিত। এখানে যেতে দূর্গম পাহাড়ী পথ বেয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। যেতে যেতে মনে হবে এক মনোমুগ্ধকর জায়গা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এই এলাকার দৃশ্য খুবই মনোরম। স্থানীয় উপজাতীয়দের ভাষায় তাজিং শব্দের অর্থ বড় আর ডং শব্দের অর্থ পাহাড় যা একত্রিত করলে হয় তাজিংডং। এটি বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে অবস্থিত।রুমা উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পর্বতের অবস্থান। বর্ষা মৌসুমে তাজিংডং যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর। শুষ্ক মৌসুমে অনেক পর্যটককে এডভেঞ্চার হিসাবে পায়ে হেটে তাজিংডং যেতে দেখা যায়। বর্তমানে রুমা উপজেলা সদর থেকে চাঁদের গাড়ীতে করে কেওক্রাডং এর কাছাকাছি যাওয়া যায়। তাজিংডং যেতে বগালেক থেকে খুব ভোরে যাত্রা করতে হবে সেক্ষেত্রে আসা যাওয়াসহ ৮-১০ ঘন্টা হাঁটার অভ্যাস থাকতে হবে। তাজিংডং ভ্রমনকারীদের অবশ্যই ভ্রমনের সময় শুকনো খাবার, খাবার পানি, জরুরী ওষুধপত্র সঙ্গে নিতে হবে। যাত্রাপথ দূর্গম ও কষ্টসাধ্য বিধায় মহিলা ও শিশুদের নিয়ে এপথে যাত্রা করা উচিত নয়। রুমা উপজেলা সদরে রাত্রিযাপনের জন্য কয়েকটি হোটেল থাকায় দলবেধেঁ যাত্রা করার আগে হোটেল বুকিং করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন।

কিভাবে যাবেন : পর্যটকদের তাজিংডং যেতে হলে বান্দরবান জেলা সদর থেকে প্রথমে যেতে হবে রুমা উপজেলা সদরে। রুমা উপজেলায় যাত্রা পথে রুমা সেনা গ্যারিসনে পর্যটকদের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। পরবর্তীতে রুমা উপজেলা সদর সেনা ক্যাম্পে আবারও রির্পোট করতে হবে। রুমা উপজেলা সদর থেকে সাধারণত বিকালে বগালেক,পরে কেওক্রাডং বা তাজিংডং এর উদ্দেশ্যে যেতে হয়।রুমা উপজেলা সদর থেকে পায়ে হেঁটে বগালেক হয়ে কেওক্রাডং এর পাশ দিয়ে তাজিংডং যেতে হয়।

বান্দরবান এসে কোথায় থাকবেন :

পর্যটন মোটেল : এটি জেলা শহরের প্রবেশ মুখে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এর সামনে। ডাবল বেড এসি ৫৪০০ টাকা এবং কাপল বেড এসি-৩০০০ টাকা সিঙ্গেল এসি-২৪০০ টাকা। ননএসি সিঙ্গেল ৮০০ টাকা এবং ননএসি ডাবল ১২০০ টাকা। বুকিং টেলিফোন নং-০৩৬১-৬২৭৪১-৪২, মোবাইল নং-০১৭৭৭-৬৯৯৫৫৭/০১৭১৭-০০২৭৯৪।

হলিডে ইন রিসোর্ট : এটিও জেলা শহরের প্রবেশ মুখে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এর সামনে : কাপল বেড এসি ১৫০০ টাকা এবং ৩ বেড এসি-৬০০০, বুকিং টেলিফোন নং : ০৩৬১-৬২৮৯৬ মোবাইল নং : ০১৫৫৬-৯৮০৪৩২।

ভেনাস রিসোর্ট সেন্টার : এটি জেলা শহরের প্রবেশ মুখে মেঘলা এলাকায়। কাপল বেড (কটেজ) এসি ৩৮০০ টাকা এবং নন এসি ২৫০০ টাকা। কাপল সাধারণ এসি-৪০০০/৫০০০/৬০০০টাকা। বুকিং টেলিফোন নং-০৩৬১-৬৩৪০০ মোবাইল নং-০১৫৫২-৮০৮০০০।

হোটেল ফোর স্টার : (বান্দরবান জেলা শহরে) সিঙ্গেল বেড রুম ৪০০ টাকা,কাপল বেড ৮০০ টাকা,, ট্রিপল বেড ১২০০ টাকা, এসি ডাবল বেড ১৫০০ টাকা, এসি ট্রিপল বেড ২০০০ টাকা।

হোটেল থ্রি স্টার : এটি বান্দরবান বাস স্টজের পাশে অবস্থিত। নীলগিরির গাড়ী এই হোটেলের সামনে থেকে ছাড়া হয়। এটি ৮/১০ জন থাকতে পারে ৪ বেডের এমন একটি ফ্ল্যাট। প্রতি ননএসি ফ্ল্যাট-২৫০০ টাকা, এসি-৩০০০ টাকা। বুকিং ফোন:-০১৫৫৩৪২১০৮৯।

হোটেল প্লাজা বান্দরবান : সিঙ্গেল বেড ৬০০ টাকা, ডাবল বেড ১২০০ টাকা, এসি ডাবল বেড ১৫০০ টাকা

বুকিং ফোন নং : ০৩৬১-৬৩২৫২

হোটেল গ্রিন হিল : (বান্দরবান জেলা শহর)
সিঙ্গেল বেড ৩০০ টাকা, ডাবল বেড ৬০০ টাকা, ট্রিপল বেড ৮০০ টাকা
বুকিং ফোন নং : ০৩৬১-৬২৫১৪, মোবাইল : ০১৮২০-৪০০৮৭৭

হোটেল হিলবার্ড (বান্দরবান জেলা শহর)
সিঙ্গেল বেড ৩০০ টাকা, ডাবল বেড ৬০০ টাকা, ট্রিপল বেড ৮০০ টাকা
বুকিং ফোন নং : ০৩৬১-৬২৪৪১, মোবাইল : ০১৮২৩৩৪৬৩৮২

হোটেল পূরবী : (বান্দরবান জেলা শহর )
এসি ডিলাক্স ১৪০০ টাকা, এসি রেগুলার ১৫০০ টাকা, নন এসি সিঙ্গেল ৩০০ টাকা
নন এসি ডাবল ৫০০ টাকা, নন এসি ট্রিপল রুম ৬০০ টাকা, ননএসি কাপল বেড ৫০০টাকা
ফোন : ০৩৬১-৬২৫৩১, মোবাইল : ০১৫৫ ৬৭৪২৪৩৪

হোটেল হিলভিউ : এটি বান্দরবান বাসস্টেশনের পাশে অবস্থিত। সিঙ্গেল ৮০০ টাকা, কাপল-১৫০০, ট্রিপল-১৮০০টাকা, এসি ডাবল-২৬০০ টাকা,ট্রিপল ৩৫০০ টাকা। ৪ বেডের নন এসি ২৫০০ টাকা এবং ৪ বেডের এসি ৪০০০ টাকা। বুকিং ফোন:-টেলি ফোন নং-০৩৬১-৬২০৩৫.৬২০৪৫। মোবাইল নং-০১৮২৮-৮৬৬০০০।

পালকি গেস্টহাউস: (বান্দরবান জেলা শহর নীলগিরি সড়কে )
এটি বান্দরবান-নীলগিরি সড়কে থানছি বাস স্টেশনের পাশে অবস্থিত। ননএসি কাপল-১৫০০, এসি ডাবল-২৫০০ টাকা। বুকিং টেলিফোন নং-০৩৬১-৬৩১৫৫। মোবাইল নং-০১৮১২৬-৮৬৭৫৫।

হোটেল হিলটন : এটি বান্দরবান জিপ স্টেশনের পাশে অবস্থিত। কাপল ননএসি ১৬০০ টাকা এবং কাপল-২৬০০, ট্রিপল এসি-৩২০০টাকা। বুকিং-টেলিফোন নং-০৩৬১-৬৩০৯১। মোবাইল নং-০১৭৪৭-৬২৬১১১/০১৫৫১-৭১২১১১।

হোটেল রয়েল : (বান্দরবান জেলা শহরে অবস্থিত) কাপল ননএসি ১৫০০ টাকা এবং সিঙ্গেল ননএসি:-৭০০ টাকা। বুকিং টেলিফোন:-০৩৬১-৬২৯২৬।

হিলসাইড রিসোর্ট, মিলনছড়ি : এটি বান্দরবান-নীলগিরি সড়কে,জেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে ক্যাপল এসি এবং নন এসি বিভিন্ন দামে কটেজ রয়েছে। এসি কাপল ৩০৬০ টাকা ও এসি ডাবল ৪০৭০ টাকা এবং এসি ৩ বেড ৬০৭০ টাকা।বুকিং মোবাইল নং-০১৮৫৪-২৯৬৩১৮।

Please follow and like us:
0

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


error: Content is protected !!