প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ সাজেক

হেমন্তের আকাশ মানেই মেঘের রাজত্ব। কখনও শুভ্র, কখনও বা গাঢ় কালো মেঘ রাজত্ব করে হেমন্তের আকাশ জুড়ে। আর যদি থাকে সাজের আকাশে অজ¯্র তারার মেলা। ভোরের আলো ফুটবে শুভ্র কুয়াশার চাদর ভেদ করে। শৈল্পিক মনের ক্যানভাসে এমন দৃশ্যপটের কথাই কল্পনায় আসে অগোচরে। মনের ক্যানভাসে আঁকা ছবিটি যদি প্রকৃতির মাঝেই দেখতে চান তবে এ হেমন্তে ঘুরে আসুন সাজেক থেকে। হুম! রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের কথাই বলছি। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এটি। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য সাজেক অনন্য এক জগত। প্রকৃতি প্রতি ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে রেখেছে আশ্চর্য সৌন্দর্য। একেক ঋতুতে একেক রূপে প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে সাজেক।

গ্রীষ্মে সাজেকের আকাশে অজ¯্র তারা ঝিকিমিকি, বর্ষায় মেঘের সাথে প্রকৃতি মিতালী, হেমন্তে শুভ্র মেঘের ভেসে বাড়ানো আর শীতে কুয়াশার চাদরে প্রকৃতিকে ঘিরে রেখে। সামনের রাজ পূজা, বড়দিন ও বিজয় দিবসের বন্ধে ঘিরে আসুন বাংলার দার্জিলিং খ্যাত সাজেক ভ্যালি থেকে।

যাবেন কি ভাবে: সাজেক ইউনিয়ন রাঙামাটি জেলায় অর্ন্তগত হলেও সড়ক পথে যোগাযোগ করতে হয় খাগড়াছড়ি দিয়ে। ঢাকা কিংবা বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে আগে যেতে হবে খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেকে যাওয়ার জীপ গাড়ী কিংবা কার/মাইক্রো ভাড়া করে রওনা হতে পারেন সাজেকের উদ্দেশ্যে। ৭৫ কিঃমিঃ সর্পিল পাহাড়ী পথ ফেরিয়ে যখন রুইলুই পাড়া পৌঁছে যাবেন তখন মনের ক্যানভাসে আঁকা চিত্রের সাথে মিলিয়ে নিন সাজেককে।

যা যা দেখতে পাবেন: রুইলুই পাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের যৌথ উদ্যোগে বেশ কিছু কৃত্রিম পর্যটন স্পর্ট করা হয়েছে সাজেকে। কংলাকের পাথর দিয়ে স্টোন গার্ডেন, অ্যাডভেঞ্চার পার্ক, ছায়াবীথি, রংধনু ব্রীজ ও পার্ক। এছাড়া রাস্তার দু’পাশে নির্মিত হচ্ছে নতুন নতুন পর্যটন স্পর্ট। সাজেকের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে রথে চড়ে উঠতে হবে কংলাক পাহাড়ে। রুইলুই থেকে কংলাকের দূরত্ব ৩-৪ কিঃমিঃ। গাড়ীতে চেপে গেলেও কংলাক পাহাড়ে উঠতে হবে পায়ে হেঁটে। সেখানে ২০-২৫টি পাংখোয়া (আদিবাসি) পরিবার বাস করে। কংলাক থেকে যেমন রুইলুই পাড়ার পুরো চিত্র দেখা যায় তেমন ভারতের মিজোরাম রাজ্যের দেখা যায়। বিট্রিশ শাসনামলের বেশ কিছু নিদর্শন দেখা যায় কংলাকে। পাথরে বাঁধা সমাধি, পাংখোয়াদের জীবনযাত্রা, তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা।

রাত্রিযাপন করতে চাইলে: প্রকৃতিপ্রেমীদের রাতের ও ভোরের সাজেক স্বর্গীয় সুখ দিতে পারে। সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে রাত্রিযাপন আবশ্যক। বর্তমানে সাজেকে থাকার জন্য অসংখ্য আবাসিক হোটেল ও গেষ্ট হাউজ রয়েছে। অনলাইন দেখে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাজেকের বিভিন্ন গেষ্ট হাউজ ও বিভিন্ন গ্রুপের ঠিকানা দেয়া আছে। যোগাযোগ করে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। এছাড়া যদি থাকতে চান আদিবাসী পল্লীতে তাহলে সন্ধ্যা নামার আগে আদিবাসী পল্লীগুলো গিয়ে ব্যবস্থা করে আসতে হবে।

সর্তকতা: দুর্গম সাজেকে এখনও জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক নয়। রাতে ও দুপুরে খাবার খেতে হলে আগেভাগে জানিয়ে রাখতে হয়। এছাড়া সাথে করে নিয়ে যেতে পারেন বাঘাইহাট বাজার থেকে। সাথে রাখতে পারেন শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সাথে রাখবেন সাজেকে থাকতে চাইলে। বেশী জরুরী হচ্ছে সাজেকে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় এমন সীম কার্ড ব্যবহার করা। কারণে সেখানে রবি ও টেলিটক ছাড়া অন্য অপারেটরদের সেবা এখনও চালু হয়নি। সাথে আরও রাখতে পারেন পাওয়ার ব্যাংক(চার্জার)।

পরিবহন ভাড়া: খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যেতে জীপ গাড়ী আসা যাওয়ায়(দিনে দিনে) ৪,৫০০ টাকা ৫,০০০ টাকা। রাত্রিযাপন করলে দিতে হবে ৫,৫০০ টাকা থেকে ৬,০০০ টাকা। কার কিংবা মাইক্রো বাসে আরেকটি বেশী।

Please follow and like us:
0

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


error: Content is protected !!