কোনারকের সূর্যমন্দির

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরীর উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত কোনারকের সূর্যমন্দির খুবই বিখ্যাত। মূলত সূর্যদেবতার উদ্দেশ্যে প্রণতি জানাতেই এই মন্দির নির্মাণ করা হয়। এটি প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যের ঐশ্বর্য এবং রুচিশীলতার এক উজ্জ্বল সাক্ষী। মন্দিরটি প্রায় ২২৮ ফুট উঁচু। ওড়িশার রাজা নরসিংহ দেব ১২৪৩ থেকে ১২৫৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই মন্দির নির্মাণ করেন। প্রায় ১,২০০ শ্রমিক টানা ১২ বছরের পরিশ্রমে এই মন্দির গড়ে তোলে। মন্দিরটিকে সূর্য দেবতার রথ ভাবা হত এবং সেই আদলেই এটি তৈরি।

মন্দিরের তিনদিকে সূর্য দেবতার তিনটি প্রতিকৃতি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যার উপর সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যাবেলা সূর্যরশ্মি পড়ে। মন্দিরের চারদিকে রয়েছে চারটি দরজা। মন্দিরটি পূর্বমুখী। পূর্বের প্রধান দরজায় রয়েছে বিরাট সিংহমূর্তি। মন্দিরের দুইপাশের দেয়ালে পাথরে খোদাই করে আঁকা হয়েছে ১২টি করে মোট ২৪টি চাকা। চাকাগুলো মূলত সূর্যঘড়ি। প্রতি চাকার ব্যাস ১০ ফুট এবং সাতটি করে ঘোড়া চাকাগুলোকে টানছে। এই সূর্য মন্দিরের জ্যামিতিক নকশা এবং নির্মাণশৈলী দেখলে সে সময়কার মানুষের গাণিতিক জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা করে নিতে মোটেও বেগ পেতে হয় না। এছাড়াও মন্দিরের গায়ে রয়েছে দারুণ সব শিল্পকর্ম। ভাস্কর্যের দিক থেকেও মন্দিরটি বেশ সমৃদ্ধ। এই মন্দির পরিদর্শন করে নোবেলজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “এখানে পাথরের ভাষা মানুষের ভাষাকে ছাড়িয়ে গেছে।”

যেভাবে যাবেন
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কলকাতা গিয়ে সেখান থেকে ট্রেনে করে পুরী। পুরী থেকে ওড়িশা ট্র্যাভেল বাসে করে কোনারকের সূর্যমন্দির।

Please follow and like us:
0

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


error: Content is protected !!